উত্থান একাদশী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা। এই একাদশী দিনে কি কি খাওয়া যাবে? বিস্তারিত আলোচনা?

 উত্থান একাদশী উত্থান একাদশী হলো কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথি, যে তারিখে ভগবান বিষ্ণু চার মাস (চাতুর্মাস) ধরে শয়ন করার পর জাগ্রত হন বলে বিশ্বাস করা হয়। এটি 'প্রবোধিনী একাদশী' বা 'দেব উথানী একাদশী' নামেও পরিচিত এবং এটিকে অত্যন্ত পুণ্যময় দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ব্রত পালনের মাধ্যমে পাপরাশি নষ্ট হয়, ঐশ্বর্য, প্রজ্ঞা, রাজ্য ও সুখ লাভ হয় এবং মোক্ষ (মুক্তি) প্রাপ্তি হয় বলে মনে করা হয়। 


ছবিতে ক্লিক করুন

উত্থান একাদশীর সম্পুর্ন কাহিনী দেখুন  এখানে....বিস্তারিত

উত্থান একাদশীর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য 

  • পাপমোচন: এই ব্রত পালনে পর্বতপ্রমাণ পাপরাশি বিনষ্ট হয় এবং যারা একাদশীতে রাত্রি জাগরণ করেন, তাদের সমস্ত পাপ ভস্মীভূত হয়।
  • অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল: শাস্ত্র অনুসারে, এই ব্রত নিষ্ঠা সহকারে পালন করলে এক হাজার অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল লাভ হয়।
  • আধ্যাত্মিক বিকাশ: এটি ভগবানের প্রতি আত্মসমর্পণের একটি প্রতীক এবং আধ্যাত্মিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন হিসেবে বিবেচিত হয়। 

  • ব্রত পালনের নিয়ম:
      • শস্য বর্জন: একাদশীর দিনে শস্য ও শস্যজাতীয় খাবার (যেমন: ভাত) বর্জন করা হয়, কারণ বিশ্বাস করা হয় যে একাদশীর দিনে শস্যের মধ্যে পাপ থাকে।
      • উপবাস: অনেকে সারাদিন কিছু না খেয়ে বা পান না করে উপবাস করেন, যা ঐশ্বরিক সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য একটি উপায়।
      • রাত্রি জাগরণ: এই দিনে রাত্রি জাগরণ করার বিধান রয়েছে, যা পাপমোচনে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
      • পরপূর্ণা: এই ব্রত পালনের পর, দ্বাদশী তিথিতে ব্রতভঙ্গ বা পারণ করা হয়। 
      • কিংবদন্তি
        • একাদশী দেবীর জন্ম: হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দেবী একাদশী স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর সত্তা থেকে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং মুর নামক এক অসুরকে পরাজিত করেছিলেন, যে বিষ্ণুকে আক্রমণ করেছিল।
        • উৎপন্না একাদশী: দেবীর জন্মের এই ঘটনাটি 'উৎপন্না একাদশী' নামে পরিচিত এবং এই ঘটনার দিনই উত্থান একাদশী পালিত হয়। 
        কেন এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ
        • চাতুর্মাসের সমাপ্তি: উত্থান একাদশী চাতুর্মাসের সমাপ্তি নির্দেশ করে, যখন থেকে শুভ কাজ, যেমন বিবাহ, শুরু করা হয়।
        • বিষ্ণু পঞ্চব্রত: এই একাদশী থেকে 'বিষ্ণু পঞ্চব্রত' শুরু হয়, যা কার্তিক মাসের পূর্ণিমা পর্যন্ত চলে। 
        • কি কি খাওয়া যেতে পারে 

          • ফল: কলা, আপেল, পেঁপে বা অন্যান্য মৌসুমী ফল খেতে পারেন।
          • দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার: দুধ, দই বা ছানা (যদি উপবাসের নিয়মের মধ্যে পড়ে) খাওয়া যেতে পারে।
          • সবজি: পেঁয়াজ ও রসুন ছাড়া অন্যান্য সবজি সেদ্ধ বা ভাপানো অবস্থায় খেতে পারেন।
          • অন্যান্য: কিছু লোক এই সময়ে বাদাম এবং বীজও খেতে পারেন, তবে এটি ব্যক্তির উপবাসের নিয়মের উপর নির্ভর করে। 
          কি কি এড়িয়ে চলা উচিত 
          • আমিষ: মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাবার সম্পূর্ণরূপে বর্জনীয়।
          • শস্য: ভাত, ডাল এবং অন্যান্য শস্য জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলোকে মনকে চঞ্চল করতে পারে বলে মনে করা হয়।
          • পেঁয়াজ ও রসুন: এই দুটি সবজি একাদশী ব্রতের সময় খাওয়া নিষিদ্ধ।
          • অন্যান্য: মশলাদার ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, যা হজম করা কঠিন হতে পারে।

             

    Comments